১৫ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশী জানেনা কবে পাবে ‘স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স’
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দ্রুতগতিতে গ্রাহকের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দেওয়ার জন্য চালু করা হয় ডিজিটালাইজড ‘স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স’।অভিযোগ প্রয়োজনীয় ফি, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট জমা দেওয়ার পরও স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সের দেখা মিলছে না। দেশজুড়ে গাড়ি চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে। এরপর থেকে সংকটের মাত্রা অতিক্রম করেই চলেছে। বিআরটিএ স্মার্ট লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখায় চালকদের ভোগান্তির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতেও তারা আবেদন করতে পারছেন না। পাশাপাশি বিদেশগামী চালকরাও আছেন দুর্ভোগে। চুক্তির এক বছরেও বিআরটিএ-কে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স সরবরাহ করতে পারেনি বিআরটিএ স্মার্ট লাইসেন্স প্রদান প্রকল্পের চুক্তিবদ্ধ সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স। মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্সের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিআরটিএ ও ১৫ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশী।টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে বিআরটিএ’র চুক্তি আছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। চুক্তির মেয়াদ থাকলেও চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সরবরাহ শেষ হয় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে।
বছর খানেক আগে আবেদন ও পরীক্ষায় পাস করেও যারা লাইসেন্স পাননি তাদের দুই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ১০ লক্ষ চালক গাড়ি চালাচ্ছেন বিআরটিএ’র ‘একনলেজমেন্ট স্লিপ’ দিয়ে। যা সড়কে চলাচলের সময় অস্থায়ী অনুমতিপত্র হিসেবে দেখানো যাবে। গত বছরের আগস্টে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য টাকা, ছবি ও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া কথা ছিল চলতি বছরের জুন মাসে। লাইসেন্স হাতে না পেয়ে একনলেজমেন্ট স্লিপের মেয়াদ শেষ হলে বিআরটিএ থেকে মেয়াদ বাড়িয়ে নিচ্ছি। একনলেজমেন্ট স্লিপের মেয়াদ শেষ হলে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিয়ে দেয়। স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড না পাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারছেন না তারা। শুধু তাই নয় এর কারণে দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দক্ষ চালক রপ্তানিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
২০২০ সালের ২৯ জুলাই ভারতীয় কোম্পানি মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে পাঁচ বছরে ৪০ লক্ষ স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের শত কোটি টাকার চুক্তি সই করে বিআরটিএ। এক বছরেও বিআরটিএ-কে সময়মত স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্সের নমুনাও দেখাতে পারেনি সংস্থাটি। এমনকি মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স এখন পর্যন্ত সেন্ট্রাল এনরোলমেন্ট স্টেশন স্থাপনের কাজই শেষ করতে পারেনি। এখনও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বিভিন্ন জেলায়। নিজ দেশ ভারতেও নাগরিকদের তথ্য বিক্রির অভিযোগে আধার কার্ড প্রকল্পে আজীবন নিষিদ্ধ তারা। ভবিষ্যতেও ভারতের কোনও টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না কোম্পানিটি।২০১৫ সালে বিএমইটির ইমিগ্রেশন কার্ড সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েও ব্যর্থ হয়েছিল মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স।
ড্রাইভিং লাইসেন্স বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- ‘বিআরটিএ’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত কার্ড সংগ্রহ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে গতি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে। গুণগত এবং স্মার্ট কার্ডের বৈশিষ্ট্য যা যা থাকার কথা তার কোনটির সঙ্গে আপস করা যাবে না।