বৃষ্টিতে পচেছে চামড়া : কাঁচা চামড়ার সংগ্রহ কমেছে ১০-১৫ শতাংশ

 প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২১, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন   |   রাজনীতি



করোনার সংক্রমণ রোধে শুক্রবার থেকে দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করায় ট্যানারি শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা ছিলো না সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে। সাভার চামড়া শিল্প নগরী ঘুরে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি ট্যানারির মূল ফটক বন্ধ রয়েছে। হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি ট্যানারির মূল ফটক খোলা থাকলেও সেখানে গিয়ে লক্ষ্য করা যায়নি ট্যানারি শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা।যাতায়াতের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা না থাকায় লকডাউনের কারণে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শ্রমিকরা সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে কাজে যোগ দিতে আসতে পারেনি। করোনা এবং লকডাউনের কারণে কারিগর পাওয়া যাচ্ছেনা। ঢাকা থেকে কারিগর না আসায় অনেক চামড়ায় লবণ লাগানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমি হাজারীবাগ থেকে ত্রিশ টাকার ভাড়া দেড়শ টাকা দিয়ে সাভারে এসেছি। এখানে যারা কাজ করে সবাই স্বল্প আয়ের লোক, তাই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অনেকে কাজে আসেনি। তাই লোকবলের অভাবে প্রায় প্রতিটি ট্যানারির বিপুল সংখ্যক চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এছাড়া করোনা ও লকডাউনের কারণে অনেক শ্রমিক ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়া স্বল্প শ্রমিক দিয়ে গত দুদিন কাজ করিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।
এবছর কোরবানির ঈদে সারাদেশে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। এরমধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। এবার ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হয়েছে রাজধানীর পোস্তায়। আড়তদারদের দাবি গত বছরের তুলনায় এবার কমছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।এরজন্য রাজধানীর উপকণ্ঠের অবৈধ আড়তকে দুষছেন তারা। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সারাদেশে ১ থেকে সোয়া ১ কোটি পশু কোরবানি হতো। তবে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে মানুষের চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি আর্থিক সংকটের কারণে এবার কিছুটা কমেছে। অবৈধ আড়তে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের কাজ করানো হচ্ছে। এতে চামড়ার মত জাতীয় সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  
 চামড়া একটি পচনশীল পণ্য, এটাকে সময় মত পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ যুক্ত করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য পরিবেশসম্মত চামড়া সংরক্ষণ করা। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের সহায়তায় অস্থায়ীভাবে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোরবানি কমে যাওয়ার কারণে কাঁচা চামড়ার যোগানও কমেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় আড়ত পোস্তায়। এর বাইরে লকডাউনের কারণে সময়মত লবন দিতে না পারায় নষ্ট হয়েছে অনেক চামড়া। সঙ্গে লবনেরও সংকট ছিল। সব কিছু মিলিয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি আড়তদাররা। 
বৃষ্টির কারণে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি চামড়ার জন্য ক্ষতিকর, এটা এসিডের মতো কাজ করে। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিনের চামড়া লবণ না মাখিয়ে পড়ের দিন সকালে ট্যানারিতে বিক্রি করতে নিয়ে আসে একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। সেই চামড়া নামাতে নামাতে বিকেলে দেখি সবগুলোই নষ্ট হয়ে গেছে।
লবন সংকটের কারণে গতবছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। আবার মহামারি করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অনেকেই কোরবানি দেননি। কোরবানিও কম হয়েছে এই বছর।   সার্বিকভাবে সারাদেশের হিসাব করলে গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কোরবানি কম হয়েছে।  
গরমের সময়টা কোরবানির অনুকূলে নয় দাবি করে বলেন, শীতের সময় একটি চামড়া ৮ ঘণ্টার জায়গায় ১০-১২ ঘণ্টাও রাখা যায়। কিন্তু গরমে ৮ ঘণ্টা একটি চামড়া লবণ ছাড়া রাখা অসম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার এখনও পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় ইউরোপিয়ান বায়াররা আমাদের কাছ থেকে চামড়া ক্রয় করছেনা।






রাজনীতি এর আরও খবর: