জুলাই মাসেই বাংলাদেশ সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছে

 প্রকাশ: ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৩:০৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


বিশ্বে গত একদিনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষের। একই সময়ে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে সাত হাজারের বেশি জনের। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে করোনার টিকাদান জোর কদমে চললেও এর সংক্রমণ ও মৃত্যু সেই তুলনায় খুব বেশি কমেনি। 
মহামারীর গড় দেড় বছরে এখনই সবচেয়ে বিপর্যয়কর অবস্থা চলছে বাংলাদেশে। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে গত এপ্রিল থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছিল। মে মাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুলাই মাসে এসে আগের সব রেকর্ড ভাঙছে।
করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসেই বাংলাদেশ সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছে। জুলাইতে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্য থেকে ৬ হাজার ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জন এবং এই রোগে মারা গেছেন মোট ২০ হাজার ৬৮৫ জন। পরিসংখ্যান মতে, গত ১৬ মাসের মধ্যে এ মাসে যত মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে, তা মোট আক্রান্তের এক-চতুর্থাংশের বেশি এবং মৃত্যুর সংখ্যা মোট মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশের বেশি। এখন পর্যন্ত একদিনে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও শনাক্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল গত ২৮ জুলাই। ওই দিন ৫৬ হাজার ১৫৭ নমুনা সংগ্রহ করা হয়; পরীক্ষা হয় ৫৩ হাজার ৮৭৭টি নমুনা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ২৩০ জনের কোভিড শনাক্ত হয়। কোরবানির ঈদের জন্য নয় দিনের জন্য শিথির লকডাউনে চলাচল বেড়ে যাওয়ায় জুলাই পেরিয়ে এই অগাস্ট মাসে আরও ভয়াবহ অবস্থার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।দেশে করোনাভাইরাসের রোগী সংক্রমণ ও শনাক্তে নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে চলতি জুলাই মাসেই। এরপর অগাস্টের পরিস্থিতি আগের সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে, এমন শঙ্কায় রয়েছে এখন রাজধানীর হাসপাতালগুলো। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে স্বাস্থ্যসেবায় যে চাপ পড়েছে, তা সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ঝুঁকিপূর্ণ রোগী বাড়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা কোনোটাই ফাঁকা থাকছে না। এই অবস্থায় ঈদের আগে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ায় আরও বিপর্যস্ত পরিস্থিতির ভয় চোখ রাঙাচ্ছে এসব হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন শিথিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিল কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।



ঈদযাত্রা, বিধি-নিষেধ শিথিলের কারণে সংক্রমণ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন। এরপর লকডাউন দিলে তার ফলাফল পাওয়া যাবে অগাস্টের মাঝামাঝির পর।“এখন সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, গ্রামে গ্রামে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় আমরা বলতাম গ্রামে করোনাভাইরাস নেই। কিন্তু এখন গ্রামই শঙ্কার জায়গা। শুরুর দিকে ভাইরাসের প্রকোপ মূলত ঢাকা ও শহরকেন্দ্রিক থাকলেও গত এপ্রিলে দেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। ভারতে প্রথম শনাক্ত করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে এখন দেশজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিপর্যয় সামলাতে গ্রামে গ্রামে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চললেই আমরা আশা করতে পারি- সংক্রমণও কমবে, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমবে এবং মৃত্যুর হারও কমবে।


মহামারী নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারি তৎপরতায় ভাটা পড়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।  ভাইরাস যতক্ষণ একজন থেকে আরেকজনে ছড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে ততক্ষণ সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হল চক্র ভাঙা, অর্থাৎ একজনকে আক্রান্ত করার পর ভাইরাস যেন তার থেকে আরেকজনকে সংক্রমিত করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা। 

আর সেজন্যই সবাইকে টিকার আওতায় আনা দরকার। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজের বেশিরভাগ অংশকে টিকার আওতায় আনা না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের কোনো বিকল্প বিশেষজ্ঞরা দেখছেন  না। হাসপাতালের বেড সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি, যদি মাস্ক না পরি, যদি সংক্রমণ কমাতে না পারি, তাহলে এসব দিয়ে সঙ্কুলান করা করা যাবে না। নিয়ম মেনে চললেই সংক্রমণ কমিয়ে আনা যাবে। নইলে আমরা একটা অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাব।”  ৭ অগাস্ট থেকে ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। দেশের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়

জাতীয় এর আরও খবর: