অপেক্ষমাণদের শরীরে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু আজ

 প্রকাশ: ০২ অগাস্ট ২০২১, ০২:০৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়



অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অপেক্ষায় থাকা এমন সোয়া ১৫ লাখ মানুষের শরীরে আজ থেকে দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু করছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। আজ ঢাকা বিভাগের সব জেলায় অপেক্ষমাণদের শরীরে দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হলেও সারা দেশে আগামী সপ্তাহ থেকে এ টিকা দেয়া হবে। দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমাণদের মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানো হবে। তবে আগে যারা এসএমএস পেয়েছিলেন কিন্তু টিকা পাননি, তাদের দ্বিতীয় ডোজ নিতে নতুন এসএমএসের প্রয়োজন হবে না।  প্রথম ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষমাণদের সময়ের ব্যবধান পাঁচ-ছয় মাসও হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। সময়ের এ ব্যবধানে প্রথম ডোজ নষ্ট হয় না। বরং শরীরে প্রয়োগকৃত প্রথম ডোজের কার্যকারিতা সময়ের ব্যবধানে বাড়ে।

 এক সপ্তাহে প্রায় এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আগামী ৭ অগাস্ট থেকে ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত এই গণটিকাদান হবে। দেশের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত সব জায়গায় এই টিকা উৎসব চলবে। ৭ অগাস্ট থেকে ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। 


করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত ও মৃত্যু ঠেকাতে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে সরকার ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ১৪ কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। গত এক দিনে দেশে প্রায় তিন লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। আট দিনে ১ কোটি মানুষকে টিকা দিতে দিনে ১২ লাখের বেশি ডোজ প্রয়োগ করতে হবে।  এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু হলেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা টিকা সময়মতো না পাওয়ায় তার গতি ব্যাহত হয়। ভারত থেকে টিকা না আসায় চীন থেকে টিকা কিনছে সরকার। পাশাপাশি টিকা সরবরাহের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও টিকা আসতে শুরু করেছে। এসব টিকা পাওয়ার পর বাংলাদেশ এখন ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছে। শহর ছাড়িয়ে ৭ অগাস্ট থেকে গ্রামেও টিকাদান শুরু করতে যাচ্ছে।


আগামী ৭ অগাস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান হবে। করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্করা। বাংলাদেশে এই পর্যন্ত যে ২১ হাজার জন মারা গেছেন, তাদের ৭৫ শতাংশের বয়সই ৬০ বছরের বেশি।
সপ্তাহব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচিতে বয়স্ক মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে তারপর অন্যদেরও টিকা দেওয়া হবে বলে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সরকারি অ্যাপ সুরক্ষায় নিবন্ধন করতে হচ্ছে। তবে বেশি মানুষকে টিকা দিতে এই প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলেছেন জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারিতে গণটিকাদান শুরুর পর এ পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৬ হাজার জনকে কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৩ লাখ ৪০ হাজার।

 বাংলাদেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না, ফাইজার ও সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটিরই দুটি ডোজ নিতে হয়। বাংলাদেশে ৪০ শতাংশ নাগরিককে টিকা দিতে ১৩ কোটি ১৮ লাখ ডোজ টিকা লাগবে। আর ৬০ শতাংশকে টিকা দিতে লাগবে প্রায় ২০ কোটি ডোজ টিকা। আগামী বছরের শুরুতে দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ২১ কোটি ডোজ টিকা আসার সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।



জাতীয় এর আরও খবর: