ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে করোনা রোগীরা : জনস্বার্থে নানামূখী তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার
ঈদের পর থেকেই রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ সংকটে হাহাকার শুরু হয়েছে।কোনো রোগী সুস্থ হলে কিংবা মারা গেলেই বেড খালি হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ঢাকার বাইরের দুই শতাধিক রোগী রাজধানীতে আসছেন আইসিইউয়ের জন্য। সাধারণ শয্যার জন্য রোগী আসার সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। শেষে ভর্তি হতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেক রোগী। তাদের অনেকে রাস্তায় কিংবা বাসায় গিয়ে মারা যাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে অনেকে সিলিন্ডার অক্সিজেন দিচ্ছেন। কিন্তু আইসিইউয়ের রোগীদের প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৭০ লিটার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। যেটা সিলিন্ডার অক্সিজেনের মাধ্যমে সরবরাহ সম্ভব না। চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালে ছেলের জন্য আইসিইউ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী মা কানন প্রভা পালকে। পরে ওই মা মারা যান।
অন্যদিকে অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উদ্ভাবিত ‘অক্সিজেট’ নামের যন্ত্রটির উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য ‘সীমিত’ অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদেরও হাসপাতালের সাধারণ বেডে রেখেই উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন-সহায়তা দেওয়া যায় এ যন্ত্রের মাধ্যমে।প্রাথমিকভাবে যন্ত্রটির ২০০ ইউনিট উৎপাদন করে তা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে বড় আকারে উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালগুলোর সাধারণ বেডে রোগীকে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যায়। তার বেশি অক্সিজেনের দরকার হলে ‘হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা’ লাগে কিংবা রোগীকে আইসিইউতে নিতে হয়। কিন্তু বিশেষ ওই ক্যানুলা ও আইসিইউ উভয়ের সংকট থাকায় অনেক রোগীকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেটের ব্যবহার বেশ কার্যকর বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ বেডে রেখেই রোগীকে ৬০ লিটার পর্যন্ত উচ্চমাত্রার অক্সিজেন দেওয়া যায় বলে জানান উদ্ভাবনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত বছরের মে-জুন মাসের দিকে অক্সিজেট নিয়ে কাজ শুরু করেন বুয়েটের জৈব চিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তওফিক হাসান ও তার চার শিক্ষার্থী -মীমনুর রশিদ, ফারহান মুহিব, কায়সার আহমেদ ও কাওসার আহমেদ।
এখনো সময় আছে, মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে সবারই মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যারা মাস্ক পরবে না তাদের টঙ্গীর সংশোধনাগারের মতো সংশোধনাগারে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকদের মাস্ক তৈরি করে গরীবদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদানের জন্য আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়। অর্থাত্ ৩৫ লক্ষ অন্তঃসত্ত্বা নারী আরো ৩৫ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বহন করে। কিন্তু করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশু মারা যাচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের করোনার ভ্যাকসিন প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সুরক্ষা অ্যাপে টিকা গ্রহণের তালিকায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রাখা হয়নি। কিন্তু এই মুহূর্তে এরাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন।
এনআইডি না থাকলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় টিকার নিবন্ধন এর সুযোগ দিচ্ছে সরকার। জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) যাদের নেই, তাদেরকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে তিন সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে টিকা দেওয়া হবে। যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি কিন্তু এনআইডি কার্ড নেই, তাদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন করে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসাধারণকে টিকাদান কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
গতরাতে বেইজিং এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশ বিমানের দুইটি ফ্লাইটে এই ২০ লাখ টিকা ঢাকায় আসে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় প্রথম ফ্লাইটে ১০ লাখ টিকা নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটটি রাত সোয়া ১ টায় আরো ১০ লাখ টিকা নিয়ে পৌঁছে। আর তৃতীয় ফ্লাইটটি আরো ১০ লাখ টিকা নিয়ে রাত সোয়া ৩ টায় ঢাকায় পৌচেছে। প্রথম দফায় ৩ জুলাই বাণিজ্যিকভাবে ক্রয়ের ২০ লাখ টিকা এসেছে। আর দ্বিতীয় দফায় ১৭ জুলাই আরো ২০ লাখ টিকা এসেছে।